Thursday, September 12, 2019

ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হয়েছিল দেশ তাহলে মুসলমানরা কেন এখানে থাকবে।



অসমে এনআরসি তালিকায় ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ার পর আতঙ্কে রয়েছে বাংলা। কেন্দ্রের তরফে সদ্য হুঁশিয়ারি এসেছে শুধু অসম নয়, গোটা দেশজুড়ে চালু করা হবে এনআরসি। তালিকায় রয়েছে বাংলা। তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদে সরব রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। তবে তাতে খুব বিশেষ পাত্তা দিতে নারাজ বিজেপি। সেটাই এদিন বেশ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘দেশভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। তাহলে মুসলিমরা কেন এদেশে থাকবে?’ এদিন রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি।



 শুধু বাংলা নয় এখান থেকে গোটা দেশে ছড়াচ্ছে। জম্মু কাশ্মীরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পাওয়া গিয়েছে কোথা থেকে এল এঁরা। আকাশ থেকে তো নয়। এখানে এখনও ওদের ‘সেল্টার’ দেওয়া হয়। তৃণমূলের নেতারা ক্যাম্প করে রেখেছে ওদের। ট্রাকে ভরে ওদের ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পাচার করা হয়। বাংলা ওদের করিডোর। এখান থেকেই এনআরসি শুরু হওয়া উচিত।’ এরই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এনআরসি নিয়ে আমরাও কাউকে তাড়াতে চাই না। তবে বাংলাদেশ থেকে যে সমস্ত রোহিঙ্গারা মমতার ছত্রছায়ায় থেকে বাংলা সহ গোটা দেশকে অশান্ত করতে চায় সেটা আমরা হতে দেব না।



যে সমস্ত মুসলমান বাংলাদেশ থেকে এই দেশে ঢুকেছে তাদের প্রত্যেককে আমরা চিহ্নিত করব। কারণ দেশভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। তারপরও কেন এই দেশে ঢুকছে লোকেরা।’ তবে তিনি এটাও জানাতে ভোলেননি যে, ‘অন্যান্য দেশে অত্যাচারিত হিন্দুদের ঠাঁই দেওয়া হবে ভারতে।’ এদিকে এনআরসির বিরোধিতায় সরব হয়ে ওঠা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একহাত নিতে ছাড়েননি দিলীপ ঘোষ। এদিন মমতার মন্তব্য ছিল, ‘২ কোটি কেন বাংলায় ২ জনের গায়ে হাত দিয়ে দেখাক বিজেপি।’ তাঁর উত্তর দিতে গিয়ে এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ওনার কথার কোনও গুরুত্ব নেই। বাংলায় এনআরসি হবেই। উনি বলেছিলেন নোটবন্দি হবে না। হয়েছে। জিএসটি হতে দেব না। হয়েছে। ৩৭০ মানবো না সেটাও করেছে বিজেপি সরকার। তিন তালাকের পক্ষে ছিল এঁরা আমরা সরিয়ে দিয়েছি।’ এরপর মমতাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলীপ বলেন, ‘ওনাকে বেঁচে থেকে দেখে যেতে হবে, বাংলায় এনআরসি হবেই।’ 

No comments:

Post a Comment